মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

উপজেলার ঐতিহ্য

১৬৬.৮৭ বর্গ কিলোমিটার জুড়ে ১২ ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত হয়েছে কেরনীগঞ্জ উপজেলা। আগে থানা প্রশাসনের অফিস ছিল ঢাকার এস. ডি. ও অফিসের নিকট ছোট্ট একটি কক্ষে। তারপর থানা প্রশাসনের অফিস চলে আসে জিনজিরায় চেয়ারম্যান আলীমুদ্দিন সাহেবের বাড়ীর ভাড়া করা একটি কামরায়। সেখান থেকে কেরানীগঞ্জ থানা প্রশাসনের কর্মকান্ড পরিচালিত হতো। কেরানীগঞ্জ থানা থেকে উপজেলায় রূপ নেয় ১৯৮৩ সনে, প্রেসিডেন্ট এরশাদের আমলে। উপজেলার প্রথম চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন জিনজিরার ব্যবসায়ী হাজী নাছির উদ্দিন। প্রথম উপজেলা নির্বাহী অফিসার হয়ে আসেন জনাব ফরহাদুর রহমান।

            বুড়িগঙ্গা ও ধলেশ্বরী বিধৌত কেরানীগঞ্জের ইতিহাস সর্ম্পকে কলাতিয়ার কৃতিসন্তান দেওয়ান শফিউল আলমের বিবরনঃ ‘‘ কেরানীগঞ্জ সম্বন্ধে ভাবতে গেলে আমাদের সর্ব প্রথমে মনে পড়ে এই এলাকার ইতিহাস এবং এই নামকরনই বা হলো কী করে। এটা সত্যি কথা কেরানীগঞ্জের নামের পিছনে কোন প্রকার ইতিহাস ভিত্তিক সমর্থন পাওয়া যায় না। তথাপি বাংলায় কররান বংশের রাজত্বকালের ইতিহাস ভিত্তিক থেকে কেরানীগঞ্জ নাম করনের কিছুটা যৌতিক সমর্থন ক্ষীন হলেও পাওয়া যায়। কররানীরা আফগান ও পাঠান জাতির একটি উন্নত শাখা শেরশাহ ও তার ছেলে  ইসলাম শাহ আফগানিস্তানে কিরান এলাকা থেকে এসে একটি পৃথক বংশের সূচনা করেন। তাজ খান কররানীই সর্বপ্রথম এই বংশকে বাংলার ইতিহাসে সুপরিচিত করেন। তাজ খানের মৃত্যুর পর ভাই সলেমান কররানী বাংলার সিংহাসনে আরোহন করেন। (১৫৬৫-১৫৭২ খ্রীঃ)। তার মৃত্যুও পর বায়েজীদ কররানী এবং তাকে হত্যা করে দাউদ খান কররানী। (১৫৭২ খ্রীঃ) বাংলার কররানী শাসক গোষ্ঠির শেষ স্বাধীন বাদশাহ রাজত্ব করেন। এদিকে ক্রমশঃ রাজ্য বিস্তারের অভিযানে পাটনা বিজয়ের পর বাদশা আকবর তার বিশ্বস্ত সেনাপতি মুনীম খানকে বাংলা জয় করার নির্দেশ দেন। মুনীম খান তার অভিযান পরিচালনায় বর্তমান দিনাজপুর ও দক্ষিনে বাকেরগঞ্জ হয়ে ঢাকার সোনার গায়ে প্রবেশ করেন। সর্বত্রই আফগানরা মুগলবাহিনীর প্রতিরোধে ব্যর্থ হয়ে বুড়িগঙ্গা পার হয়ে দক্ষিন তীরে পশ্চাদপসরন করে। কররানীদের এ স্থানে কিছু কাল অবস্থানই সম্ভবতঃ কেরানীগঞ্জ নামের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট। ’’ কথাটি হওয়া উচিত ছিল কররানগঞ্জ। কিন্তু ইষ্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানীর আমলে এক বিশেষ সম্প্রদায়ের মুসলিম নাম পরিবর্তন করে কিম্বা নামের বিকৃত রূপ দিয়ে লিখা বা উচ্চারন করা  একটি মতলবী ফ্যাশন ছিল, যার ফলে কেরানীগঞ্জের নাম প্রচারিত হতে থাকে।