মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

মুক্তিযুদ্ধে কেরানীগঞ্জ

 

 

মহান মুক্তিযু্দ্ধে কেরাণীগঞ্জ :

 

রাজধানী ঢাকার উপকণ্ঠ কেরাণীগঞ্জ। বুড়িগংগা নদীর বিধৌত কেরাণীগঞ্জ।ইতিহাসের অনেক অধ্যায়ের ধারক-বাহক। মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এ্ কেরাণীগঞ্জের ভূমিকা ইতিহাসে স্বর্নাক্ষরে লেখা থাকবে।কারণ মুক্তিযু্দ্ধের সুতিকাগার এই কেরাণীগঞ্জ কে বললে বেশী বলা হবে না।

     সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার রাজনৈতিক জীবনে কেরানীগঞ্জের মাটি ও মানুষের সার্বিক সহযোগীতা পেয়েছেন।বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ঐতিহাসিকি ভাষণের পর তার নির্দেশে চলে মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি, কেরানীগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় শুরু করা হয় অস্র প্রশিক্ষন।

     ১৯৭১ সালের ২৫ শে মার্চ কালো রাত্রে ঢাকায় গণহত্যা শুরু হলে জাতীয় পর্যায়ের সকল নেতবৃন্দ কেরানীগঞ্জে এসে অবস্থান নেয়। এই কেরানীগঞ্জে বসেই জাতীয় নেতৃবৃন্দ পরবর্তী কর্ম পরিকল্পনা তৈরী করেন।উল্লেখ্য, ২৬ শে মার্চ প্রত্যুষে কেরাণীগঞ্জের মাটিতেই স্বাধীন বাংলাদেশের লাল সবুজের পতাকা সর্বপ্রথম পত পত উড়েছিল। তৎকালীন প্রখ্যাত ছাত্রনেতা মোস্তাফা মোহসীন মন্টুর নেতৃত্বে কেরানীগঞ্জ থানা দখল করে এ অ্ধ্যায়ের সৃষ্টি করেন।

     জাতীয় নেতৃবৃন্দের অবস্থান, থানা দখল, স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন, যুদ্ধের প্রস্তুতি গ্রহণ, শাসক দলের কর্নগোচরে পৌছা মাত্র কেরানীগঞ্জে ২রা এপ্রিল ভোরে নারকীয় হত্যাকান্ড চালায়। সেই হ্ত্যাযজ্ঞে কেরানীগঞ্জে অবস্থান রত বিভিন্ন এলাকার কয়েক হাজার আবাল-বৃদ্ধ-বণিতা কে জীবন দিতে হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের দলিল পত্রে যা জিনজিরা হত্যাকান্ড হিসেবে মুদ্রিত ও উল্লেখিত রয়েছে। পাকবাহিনীর টার্গেট মিস হওয়ায় ভাগ্যক্রমে জাতীয় নেতৃবৃন্দ অক্ষত অবস্থায় ছিলেন।

 

     মুক্তিযুদ্ধের শুরু থেকে বিজয় অর্জন পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ের নারী পুরুষ শিশু বাচ্চা যারাই কেরাণীগঞ্জে অবস্থান নিয়েছিলেন, তাদের থাকা খাওয়াসহ সকল সেবাই তারা পেয়েছেন। বহু উদাহরণ আছে নিজের সন্তানের দুধ আশ্রিত শিশুদের দিয়েছেন।নিজের লেপ-তোষক, কাথা – বালিশ শোবার ঘর আশ্রিতদের দিয়ে নিজেরা অমানবিক কষ্ট সহ্য করেছেন।

মুক্তিযোদ্ধাদের থাকা ও খাওয়া এবং নিরাপদে রাখার সকল ব্যবস্থা কেরাণীগঞ্জ বাসী নিরবে সর্তকতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন।

     গর্বিত কেরানীগঞ্জের অনেক সুযোগ্য সন্তান মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেন। তারা ভারতে গিয়ে ট্রেনিং শেষে এলাকার বহু যুবককে প্রশিক্ষিত করে শত্রু বাহিনীর ব্যাংকারে ব্যাংকারে যুদ্ধ চালাতে উৎসাহিত করে। পাক হানাদার বাহিনীর সাথে যুদ্ধ করে দেশের স্বাধীনতার জন্যে কেরানীগঞ্জের বহু সূর্যসন্তান জীবনকে উৎসর্গ করে গেছেন। তাদের স্মরনে স্থানীয় পর্যায়ে বহু স্মৃতি সৌধ নির্মিত হয়েছে। স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবসে কেরাণীগঞ্জবাসী গভীর শ্রদ্ধা ভরে তাদের ঋণ পরিশোধের অঙ্গীকার করে।

     মুক্তিযুদ্ধে কেরাণীগঞ্জে ছোট বড় যুদ্ধ হয়েছে।রাজধানী ঢাকাকে কেরাণীগঞ্জে অবস্থানরত বিভিন্ন ক্যাটাগরির মুক্তিযোদ্ধারা এ পর্যায়ে অবরুদ্ধ করে রাখে। সম্মূখ যুদ্ধ , গেরিলা হামলায় পাকহানাদার বাহিনী দিশেহারা হয়ে পড়ে।সর্বোপরী ১৯৭১ সালের ২৬ শে নভেম্বর মুক্তিযু্দ্ধে ঢাকা জেলার কমান্ডার বীর মুক্তিযুদ্ধা মোস্তাফা মোহসীন মন্টুর নেতৃত্বে পরিচালিত ইতিহাস খ্যাত সৈয়তপুরের যুদ্ধ (কেরাণীগঞ্জ, নবাবগঞ্জ,সিরাজদিখান উপজেলা ) বিজয় পতাকা আনার বহু ধাপ এগিয়ে যায়।অত:পর আমরা বিজয় অর্জন করেছি। জীবন দিয়ে রক্ত দিয়ে বাংলাদেশ পেয়েছি। সারা দুনিয়ার মানুষের কাছে আমার বাঙ্গালী , বীরের জাতি । আর মহান মুক্তিযু্দ্ধে কেরানীগঞ্জের অন্যান্য ভূমিকা প্রাত: স্মরণীয় । “ মুক্তিযু্দ্ধের উপখ্যান কেরাণীগঞ্জের অবদান ”

 

 

‍‍